পর্ব ১ / ২ক্ষণকাল

ডেঙ্গু থেকে ফিরে

এই সময়ে আমি টানা ১০ দিন হাসপাতালে ভর্তি ছিলাম। হাসপাতাল থেকে রিলিজ নিয়ে পহেলা অক্টোবর রাতে বৃষ্টি চলাকালীন লিখেছি।

Mahfuzur Rahmanলেখক
Published
Reading time
৪ মিনিটের পাঠ
পাঠসংখ্যা
১০ বার পড়া হয়েছে
ডেঙ্গু থেকে ফিরে প্রবন্ধের কভারফটো।

জানালার পাশে বসে আছি। রাত হয়েছে। শরীরে খানিকটা দুর্বলতা বোধ করছি। ঘুমানো উচিত। আজকাল ঘুম আসে না তেমন। ইনসোমনিয়ায় ভুগছি কিনা নিশ্চিত নই। ইনসোমনিয়ার ব্যাপারে প্রথম শুনেছিলাম হাসনাত ভাইয়ের থেকে। তখন শব্দটা নতুন ছিলো। উচ্চারণের আগে একবার ভেবে নেয়া লাগতো। এখন এর উপরেই জীবন যাবে হয়তো। গতবছর বই মেলার জন্য একটা বই লিখা শুরু করেছিলাম। মাঝামাঝি এসে আর লেখা আগাচ্ছে না। কারণ অবহেলা। অবহেলার কোনো মৌলিক কারণ নেই। হাতে অনেক সময় আছে ভেবেই আমরা অবহেলা করি। আদৌ সময় থাকে কিনা!

রাজনীতি থেকে একটু বিরত আছি। খবর-পত্রিকা খুব একটা পড়ছিনা। খোঁজ-খবরও তেমন একটা রাখছি না। ইচ্ছা করেই রাখছি না। কিছু গুরুত্বপূর্ণ ব্যাক্তির সাথে ফোনে কথা হয়। জরুরি আলাপ ছাড়া কোথাও নিজেকে জড়াচ্ছি না। কিছু বন্ধু ও বড়ভাই বেশ কয়েকবার ফোনে খোঁজ নিয়েছেন। দেশের অবস্থা খুব একটা সুন্দর না। এদিকে ক্রিকেটে বাংলাদেশ আবারও হারলো। উপভোগ করার মতো তেমন কিছু এই মুহূর্তে মাথায় আসছে না। ইউনুস স্যারকে নিয়ে আজকাল কেউ ভালো কিছু লিখলে বিরক্ত লাগছে।

হুমায়ুন আহমেদের দুই-একটা উপন্যাস নতুন করে পড়লাম। আজকাল তাকে আর ভালো লাগছে না। আজগুবি প্রেম ভালোবাসার ফ্যান্টাসি জন্মিয়ে প্রজন্মকে ধ্বংস করেছেন উনি। অবন্তী বা চিত্রলেখা, তিতলী কিংবা মিতু, রাত্রি, মুনা ইত্যাদির মাঝে আটকিয়ে এক অবাস্তব সম্পর্কের কল্পনার জগৎ সৃষ্টি করেছেন এই ব্যাক্তি। আদতে এমন কিছুর তেমন একটা মিল নেই। তবুও কোনো এক কারণে এই জাতীয় কল্পনা করতে ভালো লাগে আমাদের। পুরুষ মানুষ পুরুষ হওয়ার আগেই প্রেমিক হয়ে যায় কিন্তু আসল প্রেমিকে রূপান্তর হয় পুরুষ হওয়ার পর। তার আগে অপরিপক্ক অন্তরে সীমাহীন অনুভূতি কাজ করে। সময়ে-অসময়ে কল্পনার জগৎ নির্দিষ্ট ব্যাক্তি কেন্দ্রিক সীমাবদ্ধ হতে থাকে। দিন দুনিয়া ভুলে থাকা কেউ কেউ বাস্তবের সাথে ধাক্কা খেয়ে ফিরে আসে। কেউ হারিয়ে যায়। কোথায় হারিয়ে যায় কেউ জানে না! কিছু ব্যাক্তি আবার সবকিছুই একসাথে চালিয়ে নেয়। তাদের প্রেম হয় বিচ্ছেদ হয়, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার, ভবিষ্যৎ নিয়েও ভাবে কিন্তু বাস্তবিক অর্থে এরা কোনো যায়গাতেই খাপ খায় না। বলা যায় বেখাপ্পা।

বৃষ্টি হচ্ছে। ঢাকা শহরের কিছু এলাকার দৃশ্য পানিময়। ভয়াবহ রকমের কাদাপানি কিছু রাস্তায়। মিরপুরের দিকটা প্রায় সময়ই তলিয়ে যায়। এখন কি অবস্থা মিরপুরের কাউকে একবার ফোন করে জিজ্ঞাসা করবো কিনা ভাবছি। কিন্তু ফোন করায় এই মুহূর্তে কোনো আগ্রহ পাওয়া যাচ্ছে না। জানালার পর্দাগুলো কিছুটা ভিজে গিয়েছে বৃষ্টিতে। একসময় বৃষ্টি অনেক প্রেমময় লাগতো। মনে হতো এই সুন্দর বৃষ্টিতে পুরুষ মানুষের উচিত প্রিয়জনের সাথে সময় কাটানো। এই সময়ে নীলক্ষেত মোড়ে এক লোক পান-বিড়ি বিক্রি করেন। কাঁধে করে পুরো দোকান নিয়ে ঘোরেন। খেয়াল করলাম তার কি মনে হয় না এই বৃষ্টিতে বাড়ি ফেরা উচিত! বউয়ের সাথে একটু গল্প করা কি তার উচিত না! কোনো কথা খুঁজে না পেলে বউকে অন্তত একটু পরে থেমে থেমে জিজ্ঞাসা করতেই পারে, "বিড়ি খাইবা?" উত্তর ইতিবাচক আসুক বা নেতিবাচক কথা বলার জন্য তো একটা বিষয় পাবে সে! নাহ এই বৃষ্টি জমছে না।

জানালা ছেড়ে টেবিলের সামনে চেয়ার নিয়ে বসলাম। ইজি চেয়ার। বড় ভাই সাত হাজার টাকা দিয়ে অনলাইন থেকে কিনেছে। আমার কাছে পুরোপুরি লোকসান মনে হয়েছে। এর থেকে ভালো চেয়ার আরোও কম দামে টঙ্গী বাজারে পাওয়া যায়। যাইহোক। বড় ভাই প্রায়ই এমন সিদ্ধান্ত নেন। আমার এইসব পছন্দ হয় না। জানালা বন্ধ করে দিয়েছি। গুমট পরিবেশ। ফ্যান ছাড়লাম। কানে বাডস লাগিয়ে প্রথমে কোক স্টুডিওর ঐ যদি বিরহ থাকে আমিও থাকি গানটা ছাড়ালাম। জমলো না। গানের নাম সম্ভবত লং ডিস্ট্যান্স লাভ। মানুষ এখনো লং ডিস্ট্যান্স লাভ আর লং ডিস্ট্যান্স রিলেশনশীপ সম্পর্কে একই ধারনা রাখে। আমি কোনো ধারনা রাখতে চাই না। এইসব ধারনা-ফারনা দিয়ে আসলে খুব একটা উপকার হয় না।

টেবিলে এমপিথ্রি সিরিজ। আন্তর্জাতিকের খন্ডটা ঠিক আমার দিকে তাকিয়ে আছে। ভাবছি পড়ালেখা শুরু করা উচিত। একসময় নিজেকে তারে জামিন পার এর ইশান আওয়াস্তি ভাবতাম। তারপর থ্রি ইডিয়েটস এর ফুংসুক ওয়াংডু। আর্টস এ ভর্তির পরে এইসব মোটিভেশন অনেকদিন খুব একটা কাজে আসেনি। টুয়েলভথ ফেইল দেখার পরে মনে হয়েছে এখনই পড়তে বসতে হবে। সে যাইহোক পড়ালেখার ব্যাপারটা আলাদা। এইসব নিয়ে আরেকদিন বলবো। পায়ের উপরে দুটো মশা বসে আছে। এদের ডেঙ্গু আছে কিনা জানা উচিত। খুবই কসরত করতে হচ্ছে পা থেকে রক্ত নিতে। দুটোকেই মেরে দিলাম। হাত লাল হয়ে আছে। দেয়ালে মুছে নেব কিনা ভাবছি। মুছলাম না। রক্ত হাতেই শুকালো। কানে এই মুহূর্তে বেজে চলছে তানভীর ইভানের, "আমি পারিনি তোমাকে... আপন করে রাখতে।



আরোও পড়ুনঃ 

এই সমাজে আপনি কে?

Mahfuzur Rahman

লিখেছেন

Mahfuzur Rahman

লেখক সম্পর্কে আরও →

মন্তব্য

মন্তব্য

চিন্তাশীল আলোচনার জায়গা। মন্তব্য করতে সাবস্ক্রাইব করুন।

আলোচনায় যোগ দিন

মন্তব্য, উত্তর ও লাইক দিতে Google দিয়ে চালিয়ে যান — নতুন লেখাও ইমেইলে পাবেন।

এক ক্লিকেই। Google শুধু আপনার নাম ও ইমেইল জানায় — কোনো পাসওয়ার্ড বা অন্য কিছু নয়।

সেলাই করা কাঁথা

হল লাইফের শেষদিকে, ছাত্রজীবনের অন্তে, জীবনের এক অদ্ভুত একাকিত্বকালীন সময়ে হঠাৎই মা'কে মনে করে লেখা।

২ মিনিট৩

পপুলিজম এক মারাত্মক ব্যাধি

২৪-এর পর জন্ম নেওয়া রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা, পপুলিজমের বিস্তার এবং বিপ্লবের অপূর্ণ রাজনৈতিক শিক্ষার দায় নিয়ে কিছু কঠিন প্রশ্ন। আমরা কি সত্যিই সেই প্রজন্মকে তার কাঙ্ক্ষিত রাজনীতি দিতে পেরেছি?

৩ মিনিট৬৭

কাঠগড়ায় নজরুল: শ্রেণির চশমায় এক কবির বিচার

কাজী নজরুল ইসলামকে তাঁর মৃত্যুর আগে বা পরেও কেবল অস্তিত্ব রক্ষায় বিচারের কাঠগড়ায় দাড় করানোর কারণ কি কেবলই তাঁর একজন বিখ্যাত কবি হওয়া?

৯ মিনিট৬৩